খেলাধুলা

বিতর্ক ও নাটকীয়তা শেষে ইরানে ফিরলেন নারী ফুটবলাররা: সীমান্তে রাজকীয় সংবর্ধনা

আকতার   ঢাকা

১৯ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি রাজনৈতিক আলোচনা ছিল যাদের ঘিরে, সেই ইরানি নারী ফুটবলাররা অবশেষে দেশে ফিরেছেন। মাঠের লড়াই আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় পার করে বুধবার তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে ইরানে পা রাখেন তারা। সেখানে হাজারো মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন এই অ্যাথলেটরা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চরম উত্তেজনার মধ্যেই এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল নারী দলটি। আসরের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় নীরব থেকে তারা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন। এই ঘটনার পর দেশে ফিরে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার ইরানি প্রবাসী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দলটিকে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এক পর্যায়ে দলের সাতজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিলেও, শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচজন সিদ্ধান্ত বদলান। খেলোয়াড়দের এই ফিরে আসা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জন:

  • মানবাধিকার কর্মীদের দাবি: তাদের দাবি, ইরানে থাকা খেলোয়াড়দের পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে।

  • ফেডারেশনের বক্তব্য: ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো অস্ট্রেলীয় পুলিশের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের প্ররোচিত করার অভিযোগ তুলেছেন।

বুধবার গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে ফুটবলাররা ইরানে প্রবেশ করলে সর্বস্তরের মানুষ তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন:

"এই মেয়েরা মাতৃভূমির সন্তান। তারা শত্রুদের বিভ্রান্তি ও ভীতি জয় করে ফিরে এসেছে।"

পুরো দল ফিরে এলেও শেষ পর্যন্ত দুজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জানা গেছে, তারা স্থানীয় পেশাদার ক্লাব 'ব্রিসবেন রোয়ার'-এ যোগ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে অনুশীলন শুরু করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারে এই ফুটবলারদের জন্য বড় ধরনের এক সরকারি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক এই উত্তাল সময়ে তাদের দেশে ফিরে আসা ইরান সরকারের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।