খেলাধুলা

মিরপুরে রফিক-ঝড়: ব্যাট-বলে দাপট দেখিয়ে একাই জেতালেন লাল দলকে

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

স্পোর্টস ডেস্ক: সময় যেন থমকে গিয়েছিল মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেই পরিচিত বাঁহাতি স্পিন, ঝোড়ো ব্যাটিং আর উদ্দাম উদযাপন—সব মিলিয়ে আবারও ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করলেন মোহাম্মদ রফিক। বয়স ৫৫ ছুঁইছুঁই, কিন্তু মাঠে তার উপস্থিতি ছিল একদম তরুণ ক্রিকেটারের মতোই প্রাণবন্ত। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের প্রদর্শনী ম্যাচে তিনি একাই হয়ে উঠলেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

মিরপুরের চেনা মাঠে দুই দলে ভাগ হয়ে নেমেছিলেন দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা। একদিকে ছিলেন শাহরিয়ার নাফিস, আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুলরা; অন্যদিকে রফিক, খালেদ মাসুদ পাইলটদের দল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রফিকের লাল দল ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে। এই ইনিংসে নাসির উদ্দিন ফারুক ৫৩ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও, দর্শকদের আসল উচ্ছ্বাস ছিল রফিককে ঘিরেই।

মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে রফিক যেন সময়কে পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যান। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে সাজানো তার ৫০ রানের ইনিংসটি ছিল দেখার মতো। অর্ধশতক পূর্ণ করার পরের বলেই আউট হলেও, নিজের কাজটা ঠিকই সেরে দিয়ে যান এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। সবুজ দলের হয়ে ফয়সাল হোসেন ২ উইকেট এবং রাজ্জাক, তালহা জুবায়ের ও আনোয়ার হোসেন ১টি করে উইকেট নেন।

২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সবুজ দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে তারা ১৫.২ ওভারে মাত্র ৯০ রানেই গুটিয়ে যায়। শাহরিয়ার নাফিস ৩৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, আশরাফুলের এক ওভারে দুটি ছক্কাও হাঁকান। কিন্তু দলের অন্য কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি।

বল হাতে আবারও আলো ছড়ান রফিক। নিজের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে ম্যাচে জানান দেন তিনি। এরপর একে একে মোট ৪ উইকেট শিকার করেন। তার উইকেট উদযাপনের ভঙ্গি ছিল নজরকাড়া—নাচতে নাচতে উইকেট উদযাপন দেখে বোঝার উপায় ছিল না, তিনি একজন সাবেক ক্রিকেটার। তার সাথে বোলিংয়ে দারুণ সহায়তা দেন ইলিয়াস সানি, যিনি একাই ৫ উইকেট নেন।

মোহাম্মদ রফিকের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ১২৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় লাল দল। স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ ম্যাচটি রফিকের হাত ধরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এবং প্রমাণ করে, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট’।