জাতীয়

শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিন্তে মনের যত্ন আগে প্রকল্পের অরিয়েন্টেশন সম্পূর্ণ

আকতার   ঢাকা

১০ মে ২০২৬


| ছবি: 

 

দেশের ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে গৃহীত নতুন প্রকল্প ‘মনের যত্ন সবার আগে’-এর অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৯ মে ২০২৬, শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এই বিশেষ পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। 

অরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি হলেও ৯৪ শতাংশের বেশি শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থী সঠিক চিকিৎসার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ২.৮১ জন আত্মহত্যা করে,WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০ জন আত্মহত্যা করছেন। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম না। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই এই প্রকল্পের সূচনা করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশন’।

অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার মোঃ মোকাদ্দেস আলী জানান, আগামী জুন ২০২৬ থেকে মে ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরব্যাপী এই প্রকল্পটি চলমান থাকবে। এর আওতায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টারঅ্যাক্টিভ কর্মশালা আয়োজন করা হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা এই কর্মশালাগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং কখন পেশাদার বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন সেসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। এসময় উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ফৌজিয়া ফেরদৌস কুয়াশা বলেন - আসলেই মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষিত। আপনাদের উদ্যোগ সত্যি অনেক প্রশংসণীয়। এই ধরনের উদ্যোগে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রুবাইয়া আমিন অর্পা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং তাদের মাঝে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো। অনলাইন ভিত্তিক এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি তরুণ প্রজন্মের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সারা দেশে স্কুলভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। 
শুভেচ্ছা ও উদ্ভোধনী বক্তব্যে মাইন্ডরিডারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো মোকাদ্দেস আলী বলেন- শারীরিক রোগের সাথে মানসিক রোগ পাল্লা দিয়ে বাড়লেও মানসিক রোগ সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের কোন ধারনা নেই। শিক্ষিত মানুষ মানসিক রোগকে জ্বীন ভূতের রোগ মনে করে বছরের পর বছর কবিরাজ দেখান। কিন্তু মানসিক রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিলে স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। তাই আমাদের বেশি বেশি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনা বাড়াতে হবে। মাইন্ডরিডার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাবে।  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইস্তেহারে মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে জোড় দাবী জানাচ্ছি তিনি যেন মানসিক স্বাস্থ্যকে সার্বজনীন করার যথাযথ উদ্যোগ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহাদী-উল মোর্শেদ বলেন- মাইন্ডরিডার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ১৩–১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে এবং সরাসরি স্কুল পর্যায়ে কর্মশালা পরিচালনার সিদ্ধান্তটি আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান হার হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং ৯০টি প্রতিষ্ঠানে এই সচেতনতা কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি বাংলাদেশের মানসিক স্বাস্থ্যখাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। এসময় উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ফৌজিয়া ফেরদৌস কুয়াশা বলেন - আসলেই মানসিক স্বাস্থ্য উপেক্ষিত। আপনাদের উদ্যোগ সত্যি অনেক প্রশংসণীয়। এই ধরনের উদ্যোগে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।  সর্বশেষ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের ওয়ার্কসপ পরিচালনার জন্য টিশার্ট বিতরণ শেষে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।