বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬

খেলাধুলা

নাহিদ রানার গতিতে দিশেহারা পাকিস্তান: ওয়ানডেতে কি ফিরছে সেই সোনালী দিন

আকতার   ঢাকা

১৩ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাফল্যের ইতিহাস খুব দীর্ঘ না হলেও তা বেশ রোমাঞ্চকর। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে যে হৈচৈ ফেলে দেওয়া শুরু হয়েছিল, সময়ের সাথে তা মহীরুহে পরিণত হয়েছে। ঘরের মাঠে ভারত বধ বা ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই স্মৃতিগুলো আজও টাইগার সমর্থকদের মনে টাটকা। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্তব্ধ করে দেওয়া কিংবা ২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় জয়গুলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাঁক বদলের সাক্ষী।

নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিকে ২০১০ ও ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে টানা দুবার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। যদিও ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাটিতেই 'বাংলাওয়াশ' করার রেকর্ড ছিল, তবে সেটি ছিল মূলত ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সারির দল। তাই কিউইদের বিপক্ষে জয়গুলোই ছিল বিশেষ।

তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ যে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতে পারে, তার চূড়ান্ত প্রমাণ মেলে ২০১৫ সালের এপ্রিলে। আজহার আলির পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। সেই ধারাবাহিকতায় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে অদম্য হয়ে ওঠে টাইগাররা, যার রেশ ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়, তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি এবং সাকিবের অনিয়মিত উপস্থিতি ধীরে ধীরে দলের ভারসাম্য নড়বড়ে করে দেয়। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞরা সরে দাঁড়ালে 'পঞ্চপাণ্ডব'-শূন্য বাংলাদেশ যেন পথ হারাতে শুরু করে। লিটন দাস, নাজমুল শান্ত, তাওহিদ হৃদয়দের প্রতিভা থাকলেও তাদের পারফরম্যান্সে ছিল না সেই ধারাবাহিকতা। ফলস্বরূপ ২০২৫ সালে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হেরে ওয়ানডেতে তলানিতে গিয়ে ঠেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

অন্ধকার কাটিয়ে গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর থেকেই বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। বিশেষ করে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের অনবদ্য ব্যাটিং এবং রিশাদ হোসেনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আবারও জয়ের সুবাস পায় বাংলাদেশ। তবে আসল চমক বাকি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি হোম সিরিজে।

১১ মার্চ 'হোম অব ক্রিকেটে' দেখা মিলল এক ভিন্ন বাংলাদেশের। স্লো ও লো পিচ নয়, বরং স্পোর্টিং পিচে বাঘের মতো গর্জে উঠল টাইগাররা। আর এই নতুন দিনের নায়ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুতগতির পেসার নাহিদ রানা

গতির ঝড়ে লণ্ডভণ্ড পাকিস্তান

গড়ে ১৪৫ কিমি গতির আগুনে বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড একাই ভেঙে দেন নাহিদ রানা। তার গতির কাছে কতটা অসহায় ছিল শাহিন আফ্রিদির দল, তা স্পষ্ট হয় পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসনের কণ্ঠে—"আমরা নাহিদ রানার কাছেই হেরে গেছি।" যদিও তাসকিন ও মুস্তাফিজ তাকে উপযুক্ত সমর্থন দিতে পারলে পাকিস্তানকে ১০০ রানের নিচেও আটকানো সম্ভব ছিল, তবুও ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ সময় নেয় মাত্র ১৫ ওভার। তানজিদ তামিম ও নাজমুল শান্তর খুনে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করে।

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে বর্তমানে ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের সমীকরণ। মিরাজের নেতৃত্বে এই তরুণ তুর্কিরা কি পারবে ১১ বছর আগের সেই ভয়ডরহীন ক্রিকেট উপহার দিতে? নাহিদ রানার গতি আর তরুণদের নতুন এই উদ্যম অন্তত সমর্থকদের মনে ২০১৫-এর সেই দাপুটে সাফল্যের পুনরাবৃত্তির আশা জাগাচ্ছে।