বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতি

বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপিতে ফেরা: অনিশ্চিত পথ, কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

বহিষ্কৃত নেতাদের বিএনপিতে ফেরা: অনিশ্চিত পথ, কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ডত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলেও, বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরার বিষয়টি এখনো চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যেও পাওয়া যাচ্ছে না ফেরার কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত।

নির্বাচনী ডামাডোলের সময় সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের বিষয়ে দলটি এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী নেতাদের মতে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। শুধু সময় গড়িয়ে গেলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বরং দলের বৃহত্তর স্বার্থে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, "বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তারা চায়নি বিএনপি সরকার গঠন করুক বা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হোক। তাদের দলে ফেরানো নিয়ে আমার জানা মতে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।"

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী ফোরামে কোনো আলোচনাই হয়নি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে তবেই বিষয়টি পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে

গত ২১ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৫৯ জন নেতাকে একযোগে বহিষ্কার করে বিএনপি। এছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময়ে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আসনে প্রার্থী হওয়ায় আরও ১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়। দলটির দাবি, এসব নেতা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন।

নির্বাচনী মাঠে জয়-পরাজয়ের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে বহিষ্কৃত নেতারা এখন ভিন্ন বাস্তবতায় রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী সাতজন সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র অবস্থান নিলেও, হারানো নেতাদের অনেকে অতীতের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ও বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, "দল আমাদের ফেরাবে কি না তা জানি না। তবে বর্তমানে আমরা নির্বাচনী এলাকায় আমাদের জন্য ভোট দেওয়া সাধারণ মানুষের কষ্ট ও সমস্যার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।"

দলের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একাংশ মনে করে, বিদ্রোহীদের পুনর্বাসিত করলে ভবিষ্যতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে। আবার আরেক পক্ষের মতে, বড় দলের রাজনীতিতে বিদ্রোহী হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই ভবিষ্যতে দলকে শক্তিশালী রাখতে শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সংকেত না আসায়, বহিষ্কৃত নেতাদের মূল স্রোতধারায় ফেরার পথ আপাতত বন্ধ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।