রাজনীতি

সংরক্ষিত নারী আসন: পরিবারের সদস্যদের এমপি বানাতে মরিয়া বিএনপির জোটসঙ্গীরা

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে জোটের শীর্ষ নেতারা এখন নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দেখতে আগ্রহী।বুধবার (৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকেই জোটের অভ্যন্তরে এই দৌড়ঝাঁপ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।জোটের শরিক দলগুলোর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনের জন্য বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার স্ত্রী ও সন্তানরা আলোচনায় রয়েছেন: আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির স্ত্রী তাসলিমা আখতার এবং প্রয়াত নেতা আরিফুল ইসলামের স্ত্রী রেবাকা নীল। সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের মেয়ে ড. মোশরেকা অদিতি হক  জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজী এবং জাতীয় দলের এহসান হুদার স্ত্রী রোকসানা শারমিন।: এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের স্ত্রী।জোটের শরিক দলগুলোর দাবি, বিগত শাসনামলে তাদের নেতারা চরম প্রতিকূলতা ও জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। জাতীয় দলের এহসান হুদার স্ত্রী রোকসানা শারমিন বলেন, "আমরা পরিবার হিসেবে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। দল সুযোগ দিলে শহীদ জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করব।"অন্যদিকে, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনে করেন, জোটের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত আসনে শরিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তাদের দল থেকে দুই-তিনজন নারী সদস্যের নাম আলোচনার জন্য বিএনপিকে জানানো হবেবিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শরিকদের মধ্য থেকে কে মনোনীত হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, এবার জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১৪টি আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র তিনজন (জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর ও আন্দালিব রহমান পার্থ) নিজস্ব প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীকে জিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

নির্বাচনী তফসিল

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী:

  • মনোনয়নপত্র জমা: ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।

  • বাছাই: ২২ ও ২৩ এপ্রিল।

  • প্রত্যাহারের শেষ সময়: ২৯ এপ্রিল।

  • ভোটগ্রহণ: ১২ মে।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট ১টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই ৩৬টি আসনের ভাগ পেতেই এখন লবিংয়ে ব্যস্ত জোটের ছোট দলগুলো।