আজকের সব খবর

আলু-পেঁয়াজের বাম্পার ফলন: মাঠে হাসি থাকলেও কৃষকের ঘরে কান্নার রোল

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

আলু ও পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন দেশের চাষিরা। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না তারা। ফলে গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের (ডিএএম) তথ্যমতে, এ বছর প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৪ টাকা। অথচ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৬ টাকা।অন্যদিকে, পেঁয়াজের অবস্থা আরও শোচনীয়। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ৩৮ টাকা হলেও পাবনাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে পাইকারি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ১৯ টাকায়। উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় এই দাম ১০ টাকার নিচে নেমে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জয়পুরহাটের আলু চাষি আবু হোসেন জানান, বিঘাপ্রতি ৪২ হাজার টাকা খরচ করে তিনি দাম পাচ্ছেন মাত্র ২০-২২ হাজার টাকা। তিনি বলেন, "ঋণের চাপে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।" একই অবস্থা পাবনার পেঁয়াজ চাষি ইয়াসিন আলীর। তার দাবি, ভরা মৌসুমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কারণেই স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি মো. আহসানউজ্জামান বলেন, "কম দাম ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির হলেও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দাম কৃষকদের ভবিষ্যতে চাষাবাদে নিরুৎসাহিত করবে।" তিনি উদ্বৃত্ত পণ্য সরাসরি সংগ্রহ, রপ্তানি বাড়ানো এবং হিমাগার সুবিধা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন।কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ জানান, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার নানা পদক্ষেপের কথা ভাবছে।ভরা মৌসুমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি।পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব।গত বছরের ঘোষিত ১১০ কোটি টাকার ভর্তুকি ও টিসিবির মাধ্যমে আলু কেনার প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।ভবিষ্যতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও কার্যকরী বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।