রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজকের সব খবর

শিশুর হাম নিয়ে অভিভাবকদের নাভিশ্বাস, সরকারের তথ্যে অস্পষ্টতার অভিযোগ ডা. তাসনিম জারার

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের নিয়ে বাবা-মায়েরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলেও সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা বা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জোট ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।নির্দেশনার অভাবে বাড়ছে ঝুঁকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নেওয়া ডা. তাসনিম জারা বলেন, "শিশুদের অভিভাবকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। তারা বুঝতে পারছেন না ঠিক কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন—জ্বর আসামাত্রই নাকি র‍্যাশ ওঠার পর? কোন হাসপাতালে যাবেন, নাকি শিশুকে বাড়িতে আইসোলেট করবেন—এসব বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট গাইডলাইন নেই।"তিনি আরও সতর্ক করেন যে, আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন-এ দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মাঝে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রবল ঝুঁকি থাকে। তথ্যের প্রবাহ না থাকায় রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন, যা সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।জনস্বাস্থ্য কাঠামোর দুর্বলতা ডা. জারা বর্তমান পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর ‘ভয়াবহ দুর্বলতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, "হাম শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যের ঘাটতি ও সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জনস্বাস্থ্য কাঠামো কতটা কার্যকর, তা নির্ভুল ও সময়োপযোগী তথ্যের ওপর নির্ভর করে।"নেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান আলোচনা সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, কতজন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, কতজন হাসপাতালে ভর্তি এবং কতজন মারা গেছে—এমন মৌলিক তথ্যও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা এই প্রশ্ন করলেও মন্ত্রণালয় কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন এবং এনসিপি-র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।আলোচনায় বক্তারা সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।