আজকের সব খবর

স্বপ্নযাত্রাই হলো শেষযাত্রা: সাগরে প্রাণ গেল সুনামগঞ্জের ১০ যুবকের, জেলাজুড়ে মাতম

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার স্বপ্ন ছিল উন্নত জীবনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাঝপথেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সাগরে পথ হারিয়ে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী, যাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল গনি। ছোট ছেলেকে ভালো রাখতে ১২ লাখ টাকা ঋণ করে দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আজ সেই ছেলের নিথর দেহের অপেক্ষায় বাড়ির সামনে মোবাইল হাতে অঝোরে কাঁদছেন তিনি। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, "জায়গা বিক্রি করে টাকা দিলাম, দালালকে কত অনুরোধ করলাম ছেলেটাকে যেন ভালোভাবে পৌঁছে দেয়। এখন শুধু একবার শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে চাই।" অনুসন্ধানে জানা যায়, অবৈধ পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন দিরাইয়ের ৫ জন, জগন্নাথপুরের ৪ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন যুবক। নিহতদের মধ্যে দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২) এবং মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২) রয়েছেন।স্বজনদের অভিযোগ, দালালদের প্রলোভনে পড়ে লাখ লাখ টাকা ঋণ করে সন্তানদের পাঠিয়েছিলেন তারা। এখন ঋণের বোঝা আর প্রিয়জন হারানোর শোক—উভয় সংকটে দিশেহারা পরিবারগুলো। তারা এই মানবপাচারকারী দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, "অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি।"

হাওর অঞ্চলের অভাবী পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে অকালে নিভে যাওয়া এই প্রাণগুলোর শোকে স্তব্ধ পুরো সুনামগঞ্জ। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন কিংবা সমুদ্রের নোনা জলে নিখোঁজ হওয়ার এই ধারাবাহিকতা কবে থামবে, এখন সেই প্রশ্নই জনমনে।