আজকের সব খবর

কক্সবাজারে পর্যটক সেজে ছিনতাই সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল, গ্রেফতার ৮

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

কক্সবাজারে পর্যটক সেজে ছিনতাই সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল, গ্রেফতার ৮
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড়কে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পর্যটকদের মোবাইল, নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এমনকি বাধা দিলে ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনাও ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
গত ২৬ মার্চ ভোরবেলায় কক্সবাজারের লাইট হাউজ পাড়ায় নোয়াখালী থেকে আসা এক পর্যটক, রিফাতকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। যা জেলা পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর মডেল থানার বিশেষ দল মাঠে নামে। সদর মডেল থানার এসআই নুর মোহাম্মদ জানান, অপরাধীরা পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রেখেই তাদের অভিযান চালায়। তবে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে ছিনতাই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিনের নেতৃত্বে সুগন্ধা পয়েন্ট, গুমগাছ তলা, লাবনী পয়েন্টসহ পর্যটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ আটজন সক্রিয় ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: সাহেদুল ইসলাম শাকিল (২৪), সাইফুল ইসলাম বাবু (২২), মো. কায়সার (২১), জমির উদ্দিন (৩৬), আনিছুল মোস্তফা (২৩), আবদুল্লাহ (৩৪), এবং এই চক্রের অন্যতম দুই সদস্য হারুন (৩০) ও শুক্কুর (২৮)।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত হারুন নিজের পরিচয় আড়াল করতে অন্তত ছয়টি ভিন্ন নাম (হারুন, মুন্না, মাতালম, মো. আলম, খাইরল আমিন, আমিন) ব্যবহার করত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও অস্ত্র আইনের ২৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। অপর সদস্য শুক্কুরের বিরুদ্ধেও ৫টির বেশি মামলা রয়েছে।
সদর থানার ওসি ছমিউদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "গ্রেফতারের পর এরা জামিনে বেরিয়ে আসে এবং আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়, যা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।"