আজকের সব খবর

অনলাইন ক্লাস: কর্মজীবী বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ, বাড়ছে শিশু সুরক্ষার ঝুঁকি!

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের আকস্মিক অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তে খোদ রাজধানীতেই চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো অভিভাবক। ‘এক ঘরে এক মোবাইল, কিন্তু শিক্ষার্থী দুই’—এমন বাস্তবতায় সন্তানদের শিক্ষা জীবন নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা। একদিকে ডিভাইস সংকট, অন্যদিকে ইন্টারনেটের চড়া দাম; সব মিলিয়ে অনলাইন ক্লাসকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘অবাস্তব’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মা রুবিনা ফেরদৌস জাগো নিউজকে তার অসহায়ত্বের কথা জানান। তিনি বলেন, “স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমার একটিই স্মার্টফোন যা নিয়ে আমি অফিসে যাই। বাসায় শ্বশুর যে ফোন ব্যবহার করেন তাতে ইন্টারনেট চলে না। আমার ফোনটা বাসায় রেখে গেলেও দুই মেয়ে একসাথে ক্লাস করবে কীভাবে? এখন কি জনে জনে মোবাইল কিনতে হবে? এটা কি হুট করে বললেই সম্ভব?”একই চিত্র মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অভিভাবকদেরও। আফজাল হোসেন নামে এক অভিভাবক জানান, তার তিন সন্তানই স্কুলে পড়ে। তিনজনের জন্য তিনটি আলাদা ডিভাইস কেনা এবং মাসিক অন্তত ২০ জিবি ডেটা প্যাকের খরচ চালানো তার মতো মধ্যবিত্তের পক্ষে অসম্ভব।শহরের অধিকাংশ বাবা-মা কর্মজীবী। সন্তানকে স্কুলে দিয়ে তারা অফিসে যান। এখন অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিশুদের হাতে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপ দিয়ে অফিসে যাওয়াটা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকের মতো জরুরি পেশায় নিয়োজিত দম্পতিরাও শঙ্কিত—বাসায় একা পেয়ে সন্তান ক্লাসের বদলে অন্য কোনো ক্ষতিকর বিষয়ে আসক্ত হয়ে পড়ে কি না।গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এই সিদ্ধান্তকে ‘বাজে কাজ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা এখন প্যানিকের মধ্যে আছেন। শিক্ষকরাও প্রশিক্ষিত নন। প্রায় শতভাগ অভিভাবক এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। সরকারের উচিত এখনই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।”অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ মনে করেন, করোনার সময় অনলাইন ক্লাসের অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো ছিল না। এর চেয়ে স্কুলের সময় কমিয়ে বা ছুটির দিন সমন্বয় করে সশরীরে ক্লাস চালু রাখাই যুক্তিযুক্ত।শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক জানান, বিষয়টি কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তবে আপৎকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকার নামি কিছু স্কুলে (ভিকারুননিসা, রাজউক, রেসিডেন্সিয়াল) পরীক্ষামূলকভাবে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা চলছে। সংকটগুলো সমাধান করেই চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।