বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সারাদেশ

কুষ্টিয়া সীমান্তে সীমানা পিলার স্থাপন করবে বিজিবি

আকতার   ঢাকা

১৭ জানুয়ারী ২০২৫


| ছবি: 

কুষ্টিয়ায় চল্লিশপাড়া অংশে পদ্মা নদীর চর সংলগ্ন এলাকায় সীমান্তে উদ্ধার ভূখণ্ডে সীমানা পিলার স্থাপন করবে বিজিবি। উদ্ধারকৃত এলাকা বিজিবির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ওই এলাকায় অস্থায়ী পিলারের অবস্থান ও মার্কিং সঠিক রয়েছে এবং বিজিবি টহল দল নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিবির এ ধরনের পদক্ষেপে স্থানীয় লোকজন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষ ওই এলাকায় অবাধে চলাচল করতে পারছে। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী উভয় দেশের উপযুক্ত প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে ওই এলাকায় চূড়ান্তভাবে সীমান্ত পিলার স্থাপন কার্যক্রম শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পদ্মার শাখা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় ওপারে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ জমি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকা এ জমি উদ্ধারে তৎপর হয় বিজিবি। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ সীমান্তে স্থাপন করা হবে সীমানা পিলার। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে দু’দেশের যৌথ সার্ভে কার্যক্রম। বিজিবি-বিএসএফ কর্মকর্তাদের বৈঠকে মিলেছে আশানুরুপ সাড়া।

আরও জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী থানা ও জলঙ্গী সীমান্ত। ভারত ভূ-খন্ডের জলঙ্গী সীমান্ত এলাকায় কাটাতারের বেড়া না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এ সীমান্তে দু’দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা অরক্ষিত। এখানে নেই কোন সীমানা পিলার। আন্তর্জাতিক সীমানা রেখায় বাংলাদেশ অংশে উড়ানো হচ্ছে সাদা পতাকা। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের একাধিক বৈঠক ও পত্র চালাচালির পর অবশেষে চল্লিশপাড়া সীমান্ত এলাকার অরক্ষিত ভূ-খন্ড বা জমি ফেরত পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থাপন করা হবে সীমানা পিলার। একইসাথে ভারতও ফেরত পাবে তাদের অরক্ষিত অংশ। পদ্মার শাখা নদীর তীর ঘেষে জেগে উঠা অংশে রয়েছে বাংলাদেশী ভূ-খন্ড। বেদখলে থাকা ভূ-খন্ডের জমি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছে সীমান্ত এলাকার মানুষ। জমি ফেরত পাওয়ার আশায় তাদের মাঝে ফিরেছে স্বস্থি। এমনটি জানিয়েছেন চল্লিশপাড়া এলাকার সোহেল আহামেদসহ সীমান্তে বসবাসরত সাধারণ মানুষ।

এদিকে বাংলাদেশের সীমান্তে পিলার স্থাপনে মিলেছে আশানুরুপ সাড়া। দু’দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে দ্রুতই নেওয়া হবে কার্যকরী পদক্ষেপ।

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান, পিএসসি জানান, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীনস্থ চল্লিশপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ অংশে পদ্মা নদীর চর সংলগ্ন এলাকায় শূন্য রেখা বরাবর সীমান্ত পিলার ১৫৭/এমপি হতে ৮৫/১০-এস পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. এলাকা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ও বিজিবি’র নিয়ন্ত্রণে থাকা বিপুল পরিমান বাংলাদেশী ভূ-খন্ড এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কর্ণেল মারুফুল আবেদিন বলেন, বর্তমানে উদ্ধারকৃত এলাকায় বিজিবি’র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। উক্ত এলাকায় অস্থায়ী পিলারের অবস্থান ও মার্কিং সঠিক রয়েছে এবং বিজিবি টহল দল নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিজিবি’র এ ধরণের পদক্ষেপে স্থানীয় জনসাধারণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষ ওই এলাকায় অবাধে চলাচল করতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুযায়ী উভয় দেশের উপযুক্ত প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে ওই এলাকায় চুড়ান্তভাবে সীমান্ত পিলার স্থাপন কার্যক্রম শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে।