সারাদেশ

দেশে হামের প্রকোপ: মৃত্যুর মিছিলে বাড়ছে শিশুদের সংখ্যা, কারণ টিকা সংকট ও অপুষ্টি।

আকতার   নিউজ ডেস্ক

৩০ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

টিকা সংকট ও অপুষ্টিতে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি
রাজধানীসহ সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ জনই মারা গেছে চলতি মার্চ মাসে। তবে বেসরকারি ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিশেষজ্ঞরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য টিকার ঘাটতি, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং শিশুদের অপুষ্টিকে দায়ী করছেন।
গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ শুরু হলেও মার্চ মাসে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (IDH): এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৬০ জন সন্দেহভাজন রোগী এসেছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৬৯। শুধু মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৪৪৮ জন।
আইডিএইচ-এ ২১ জন, শিশু হাসপাতালে ৬ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এনসিসি কোভিড হাসপাতালে ৮৫ জন রোগী ভর্তি, যার মধ্যে ১৭ জন আইসিইউতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশেরই হামের টিকা দেওয়া ছিল না। সংক্রমণের প্রধান কারণগুলো হলো:
টিকা কর্মসূচিতে বিরতি: ২০২০ সালের পর দেশে কোনো বিশেষ হামের ক্যাম্পেইন হয়নি। ২০২৪ সালের পরিকল্পনা থাকলেও দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি তিন দফায় ব্যাহত হয়।
গত বছর ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক কর্মসূচি ঠিকমতো না হওয়ায় শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিলতা বাড়ছে।
সাধারণত ৯ মাসের বেশি বয়সী শিশুদের হাম হলেও এবার ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুত প্রায় শেষ। তবে মাঠপর্যায়ে আরও এক মাসের সরবরাহ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ৬০৪ কোটি টাকার টিকা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ইপিআই কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা দেশে পৌঁছেছে এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি বা ঈদুল আজহার আগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও লক্ষণ
ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ এবং শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এ আরএম সাখাওয়াত হোসেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন: শুরুতে ৩-৪ দিন তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা ও বমি ভাব। এরপর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেয়।আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।
জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে।
সর্দি-কাশি থাকলেও টিকা বাদ দেওয়া যাবে না; সুস্থ হওয়ার পর দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে।হামের কারণে নিউমোনিয়া বা যক্ষ্মার মতো জটিলতা হতে পারে, তাই বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।