সারাদেশ

পদ্মার ৯০ ফুট গভীরে বাস: বৃষ্টির বাগড়ায় ব্যাহত উদ্ধার অভিযান

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি পানির ৯০ ফুট গভীরে অবস্থান করছে। ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল বাসটির অবস্থান শনাক্ত করলেও প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, রাত সাড় ৮টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে দুই নারীর মরদেহ ও এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাসের অবস্থান পানির প্রায় ৯০ ফুট নিচে হওয়ায় উদ্ধার কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিকভাবে ধারণা, এখনো অন্তত ৪০ জন যাত্রী পানির নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি ফেরি সজোরে পন্টুনে আঘাত করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। বাসটিতে আনুমানিক ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন।

গোয়ালন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ৫-৭ জন (কমান্ডারের মতে ১১ জন) সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাকিরা এখনো পানির নিচে বাসের ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন। বাসের গভীর অবস্থান এবং বর্তমান আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ধীরগতিতে চলছে। নিখোঁজদের স্বজনরা নদীর পাড়ে ভীড় করছেন, তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।