বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬

সারাদেশ

দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাস: স্বজনদের আহাজারিতে ভারী বাতাস

আকতার   নিউজ ডেস্ক

২৫ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

দৌলতদিয়া (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাসে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রীর ভাগ্য এখন অনিশ্চিত। সময় গড়ানোর সাথে সাথে নদী তীরে নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারি বাড়ছে, আর রাত ৮টার পর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে উদ্ধার অভিযান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই নিখোঁজ রয়েছেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরের বিশেষ ডুবুরি দল। তারা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে বাসের অবস্থান শনাক্ত করা এবং প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। রাত ৮টার পর শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং নৌ পুলিশ কাজ করছে।

ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর রশীদ, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন।

নদী তীরে নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের কান্না ও আহাজারিতে দৌলতদিয়া ঘাটের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী আইন উদ্দিন বলেন, “কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ২টা ১০ মিনিটে বাসে উঠেছিলাম। আমি, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে ঢাকার সাভার যাচ্ছিলাম। আমরা সবাই বেঁচে গেলেও আমার মেয়ে বাসের মধ্যে রয়ে গেছে।”

গোয়ালন্দ সরকারী কামরুল ইসলাম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আওয়াল আনোয়ার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছোট বোন আর নেই, তার লাশ গোয়ালন্দ হাসপাতালে। কিন্তু আমার ভাগনে ও নাতি এখনো বাসের ভেতর নদীতে।”

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ ধীরগতিতে চলছে। বাসের ভেতরে ঠিক কতজন যাত্রী আটকে আছেন, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।