সারাদেশ

নেছারাবাদে মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই ঘাতক গ্রেপ্তার

আকতার   পিরোজপুর প্রতিনিধি

১৫ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নেছারাবাদে চাঞ্চল্যকর মাথা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত দুই মূল অভিযুক্তকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো: তরিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪): বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে (পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী)। আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২): পিরোজপুরের দুর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে (পেশাদার মাদক কারবারি)।

নিহত গোপাল চন্দ্র দাস (৪৫) বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে এবং পেশায় একজন ট্রাকচালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি মোটরসাইকেলে করে গোপালকে নেছারাবাদের সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

  • হত্যাকাণ্ডের কারণ: পুলিশ সুপারের তথ্যমতে, নিহত ও গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মূলত নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

  • সিসিটিভি ফুটেজ: ইটভাটার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ৩টার দিকে তিন ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে চড়ে ইটভাটায় প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর মাত্র দুজনকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

  • উদ্ধার অভিযান: তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার দুপুরে কাশিপুর থেকে সম্রাটকে এবং রাতে স্টিমারঘাট এলাকা থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়। তবে মাথা ও ধারালো চাকু এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।