বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬

সারাদেশ

অটোপাসের দাবিতে উত্তাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: উপাচার্যকে হেনস্তা ও সংঘর্ষে আহত ৩৫

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপাচার্যকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের একদল শিক্ষার্থী অটোপাসের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ ক্যাম্পাস থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী গাড়ির নিচে শুয়ে পড়ে এবং উপাচার্যকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে।নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রেজাউর রহমান মিয়াসহ অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। আহতদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ভাবনা রহমান অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কথা না বলে উল্টো তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তারা এই হামলার বিচার দাবি করেছেন।উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, "শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি ও অন্যায় আবদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনো সহানুভূতি দেখাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাসকে সমর্থন করে না।"তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে অটোপাস বা অতিরিক্ত গ্রেস মার্ক নিরুৎসাহিত করা হবে। অটোপাস দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।, এর আগে শিক্ষার্থীদের ১০ শতাংশ গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তারাই অটোপাসের দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর আগেও গত বছর একই দাবিতে আন্দোলনের সময় উপাচার্য হামলার শিকার হয়েছিলেন।