সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারাদেশ

বিয়ের আট বছরের মাথায় বাংলাদেশী তরুণীর মৃতদেহ মিলল ভারতের রেললাইনে

আকতার   পিরোজপুর প্রতিনিধি

১৭ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

পিরোজপুর প্রতিনিধি

 মেয়ে সুখে থাকবেন এই আশায় এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন ভারতে। তবে বিয়ের মাত্র আট বছরের ব্যবধানে মেয়ের কাটা পড়া বিকৃত মৃতদেহ মিলেছে ভারতের একটি রেললাইনে। 
এমনই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রদীপ রায় ও আরতী রায় দম্পতির মেয়ে অদিতি সরকার ওরফে তিথির (২৫)। গত ৪ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদা পালপাড়া রেল লাইনে অদিতি’র বিকৃত মৃতদেহ পাওয়া যায়। 
২০১৮ সালে কল্যান নামে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে অরিন্দম সরকারের সাথে ভারতে বিয়ে হয়েছিল অদিতির। তাদের ঘরে ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে যার নাম দিব্য সরকার। প্রায় ১১ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে পরিবারসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চাকদা পালপাড়ায় গিয়েছিল অরিন্দমের পরিবার। সেখানকার বিজেপি’র বিধায়ক অসীম সরকারের খুবই ঘনিষ্ঠ তারা। অরিন্দম গ্যালারী নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলই অরিন্দমের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। তার চ্যানেলেই শিল্পী অসীম সরকারের গান আপলোড করা হয়। 
আরতী জানান, গত ৩ মার্চ সকালে হাসিখুশিভাবেই অদিতির সাথে তার ফোনে কথা বলেছিল। কিন্তু বিকেলে একধিকবার ফোন করার পর, কেউ ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলতে পারেনি। এরপর সে ভারতে তাদের আরেক আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করে। তখন সে অদিতির শ^শুর বাড়িতে খোঁজ নিলে তারা জানায় যে, অদিতি ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে পালিয়ে গেছে। কিন্তু এর পরের দিনই বাড়ির কাছে পালপাড়া রেল স্টেশনে অদিতির কাটা পড়া মৃতদেহ পাওয়া যায়। 
আরতীর অভিযোগ, অদিতির শ^াশুড়ি তপতী সরকার এবং স্বামী অরিন্দম সরকার সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে তার মেয়ের উপর নির্যাতন করত। এরই ধারাবাহিকতায় তারাই পরিকল্পিতভাবে অদিতিকে হত্যা করে মৃতদেহটি রেল লাইনে ফেলে রেখেছে। 
এছাড়া বিজেপি অসীম সরকারের সাথে অরিন্দমের ঘনিষ্ঠতার কারণে স্থানীয় থানা পুলিশও এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। 
আরতী আরও জানান, অরিন্দমের আগেও একটি বিয়ে থাকলেও সেটি তাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশের বাগেরহাটের ফকিরহাটে থাকাকালীন সময় অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অরিন্দমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর সে তখন পালিয়ে ভারত চলে যায়। 
ভারতে অরিন্দমের এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অদিতির সাথে প্রতিবেশীদের খুবই সু-সম্পর্ক থাকায় তারা কেউই অদিতির মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। তারা মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করলেও, অদিতির সেখানে কোন নিকট আত্মীয় না থাকায়, পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তাই সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অদিতির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।