বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয়

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই হবে, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধীদল: আইনমন্ত্রী

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে, বাতিল হওয়া এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতারা সাধারণ মানুষের মাঝে ‘বিভ্রান্তি’ ছড়াচ্ছেন।রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।আইনমন্ত্রী বলেন, "সংসদে রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা সংশোধনের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যারা আমাদের কাজের সমালোচনা করছেন এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন করছেন না।"অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এরই মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিল পাসের মাধ্যমে ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে।গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে অনুমোদিত না হওয়ায় এসব অধ্যাদেশ তাদের বৈধতা হারায়। বিরোধীদলগুলো মনে করছে, বিশেষ করে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যাওয়াসহ মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এখন বৈধতা সংকটে পড়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, স্বতন্ত্র সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও মানবাধিকার কমিশনের মতো সাতটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিরোধীদলের এই উদ্বেগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার থেকে সরে আসিনি, বরং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”এখন দেখার বিষয়, সরকার পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারণ করে।