জাতীয়

ভ্যাকসিন কেনায় ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্তদের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

করোনাকালে ভ্যাকসিন আমদানির নামে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই বিশাল দুর্নীতির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য চেয়ে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।দুদক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে করোনা সামগ্রী ও মাস্ক কেনায় অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হলেও, ভ্যাকসিন কেনায় অনিয়ম নিয়ে এই প্রথম বড় ধরনের অনুসন্ধান শুরু হলো।দুদকের কাছে আসা অভিযোগের তালিকায় উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং বেক্সিমকো গ্রুপসহ বিগত সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও উপদেষ্টার নাম। অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা নসাৎ করে দিয়ে আমদানিনির্ভর বাণিজ্যের মাধ্যমে এই বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, মহামারি চলাকালীন দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক ‘বঙ্গভ্যাক্স’ নামে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের ঘোষণা দিলে দেশজুড়ে আশার সঞ্চার হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গভ্যাক্সের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গ্লোব বায়োটেককে বেক্সিমকোর সঙ্গে যৌথ শেয়ারে যেতে চাপ দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নানা অজুহাতে দেশীয় এই উদ্যোগকে আটকে দেয় তৎকালীন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এর ফলে গ্লোব বায়োটেকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ যেমন স্থবির হয়ে পড়ে, তেমনি বিদেশ থেকে ভ্যাকসিন আমদানির পথ প্রশস্ত হয়।ভ্যাকসিন আমদানি ও সরবরাহের নামে ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি বর্তমানে দুদকের আর্থিক ও প্রশাসনিক বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমদানি-সংক্রান্ত নথি, আর্থিক বিবরণী ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তপত্র তলব করা হয়েছে।দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ, নথি জব্দ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।দীর্ঘ ছয় বছর পর শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।