রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয়

মেধার শীর্ষে থেকে আজ কারাবন্দি, রাজনীতির কি নির্মম পরিহাসে শিরীন শারমিন?

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

রাজনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে—‘কখনো ফুলের মালা, কখনো জেলখানা’। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই প্রবাদেরই এক জীবন্ত প্রতিফলন। ৪৩ বছর আগে ঢাকা বোর্ডে এসএসসিতে প্রথম হওয়া সেই মেধাবী শিক্ষার্থী, যিনি টানা তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করেছেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তাকে কাটাতে হলো আদালতের কাঠগড়ায় এবং শেষমেশ ঠাঁই হলো কারাগারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ একটি সাদাকালো ছবি ভাইরাল হয়। ১৯৮৩ সালের সেই ছবিতে দেখা যায়, হলিক্রস স্কুল থেকে মানবিক বিভাগে ঢাকা বোর্ডে প্রথম হওয়া এক কিশোরী তার বাবা-মায়ের পাশে বসে আছেন। তিনি আর কেউ নন, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার বাবা রফিকুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সাবেক সচিব এবং মা প্রফেসর নাইয়ার সুলতানা ছিলেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে—এসএসসি, এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের এসেক্স ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত—তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা সাবেক এই স্পিকারকে মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও খারিজ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় তিনি কোথায় ছিলেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাড়া-মহল্লা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সরকারের অনেক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ থাকলেও, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগ তেমন একটা শোনা যায়নি। তবুও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঝড়ে তাকেও আজ কারাবরণ করতে হচ্ছে।

এক নজরে রাজনৈতিক পথচলা:

  • ২০১৩: বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ।

  • ২০১৪ ও ২০১৯: টানা দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে স্পিকার নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

  • অন্যান্য পদ: এর আগে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভা পরিচালনা করা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের এই পতন আবারও মনে করিয়ে দেয় রাজনীতির অমোঘ সত্যকে। যেখানে ক্ষমতা, প্রটোকল আর সম্মান মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যেতে পারে। সাফল্যের শিখর থেকে কারাবন্দি হওয়ার এই ঘটনাটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে।