জাতীয়

. সংসদে প্রধানমন্ত্রী: আওয়ামী লীগ আমলে পাচার ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানবিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদ অধিবেশনে এটিই ছিল তার প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে অবৈধভাবে গড়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বছরে প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও আরব আমিরাতের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তির (MLAT) বিষয়ে সম্মতি মিলেছে এবং বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরেন: আদালতের নির্দেশে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০,৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে।অর্থপাচার রোধে এ পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলার তদন্তের জন্য দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান দল (JIT) গঠন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানান, দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা।