জাতীয়

পুলিশের ‘মনোবলে’ আঘাত, ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্যে উত্তপ্ত প্রশাসনিক অঙ্গন

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ঢাকা শহরে সরকারি গাড়ি পার্কিং সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ সদস্যের প্রতি করা ওই ম্যাজিস্ট্রেটের বিরূপ মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলুর সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।গত ৬ এপ্রিল দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের সরকারি গাড়ি পার্কিং নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের কিছু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ম্যাজিস্ট্রেটকে পুলিশ সদস্যের উদ্দেশে ওই ধরনের মন্তব্য করতে দেখা যায়, যা মুহূর্তের মধ্যে নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের ওই মন্তব্য শুধু সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য নয়, বরং পুরো পুলিশ বাহিনীর পেশাগত মর্যাদা ও আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। সংগঠনটির মতে:সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, টহল কার্যক্রম ও জরুরি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে অনেক সময় জরুরিভিত্তিতে রাস্তায় গাড়ি রাখতে হয়। এই কাজের ধরন ও বাস্তবতাকে আমলে না নিয়ে প্রকাশ্যে পুরো বাহিনীর সমালোচনা করা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে কাম্য নয়।পুলিশ বাহিনী যখন পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা একে অপরের পরিপূরক। কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত, প্রকাশ্যে এমন নেতিবাচক মন্তব্য করা কেবল ভুল বোঝাবুঝিরই সৃষ্টি করে।পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, ২০২৪-পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনী যখন নিজেদের আধুনিক ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলছে, তখন এ ধরনের বক্তব্য বাহিনীর ধারাবাহিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে আরও সংযত ও পেশাদার আচরণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।এদিকে ম্যাজিস্ট্রেটের ওই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের মত পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে সাধারণ মানুষ পুলিশের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে সোচ্চার, অন্যদিকে পুলিশের একাংশ একে বাহিনীর মর্যাদার ওপর হামলা হিসেবে দেখছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা আসে কি না, সেদিকেই নজর এখন সবার।