জাতীয়

হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকা সংকট: সংসদে পূর্ববর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি এবং টিকা সংকটের জন্য জাতীয় সংসদে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর কোনো টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় শিশুরা এখন প্রাণঝুঁকিতে পড়েছে।সোমবার (৬ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের বিস্তার এবং আইসোলেশন ও আইসিইউ সুবিধার অভাবের বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর তা করা হয়নি। ফলে একটি বিশাল সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, যা হামসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেছে।" জরুরি টিকাদান কর্মসূচি মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।কর্মসূচির প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু হবে।চিকিৎসা সুবিধা ও অক্সিজেন সিস্টেম হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজশাহীতে অতিরিক্ত ২৫০টি শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিডিডিআর,বি-র উদ্ভাবিত মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ের নতুন সাশ্রয়ী অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেমের মাধ্যমে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।বাজেট ও তদারকি সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন মাঠপর্যায়ে অব্যবস্থাপনা এবং বাজেটের টাকা অব্যয়িত থাকা নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনার সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে বর্তমানে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।