জাতীয়

নতুন আইনে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ না করায় জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগ

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

দেশে নতুন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হলেও ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, নিয়ন্ত্রণহীন এসব নেশাদ্রব্য শিশু-কিশোরদের জীবনকে প্রাণঘাতী হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি তামাকবিরোধী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ২(গ) ধারা থেকে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের সংজ্ঞা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানও বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিলুপ্তি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ভয়ংকর হুমকি।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ না করে এই বিধান বাতিল করেছে, যার ফলে নতুন এসব নেশাদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে এখন কার্যত কোনো কার্যকর আইন নেই।"বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ প্রসারের প্রচেষ্টা উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সরাসরি পরিপন্থি। কারণ:আমদানি আদেশের আওতায় দেশে ই-সিগারেট আমদানি আগেই নিষিদ্ধ।আপিল বিভাগের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এসব পণ্যের বিষয়ে।তা সত্ত্বেও অর্থনীতির দোহাই দিয়ে দেশে এসব নেশাদ্রব্যের বাজার তৈরির অপচেষ্টা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে তারা সতর্ক করেন।সংবাদ সম্মেলনে সিটিজেন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট (সিএসডি)-এর আহ্বায়ক একেএম মাকসুদের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, যেখানে বাংলাদেশে এসব পণ্যের ব্যবহার নেই বললেই চলে, সেখানে কেন এই বাজার সৃষ্টি করা হচ্ছে? তারা অবিলম্বে জনস্বার্থে এই ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টগুলো নিষিদ্ধের দাবি জানান।সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক ফারহানা জামান লিজা। এছাড়া বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ ইসরাত আজমেরীসহ বিশিষ্ট তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।