জাতীয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি: কানাডার ১ কোটি ডলার অনুদান

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কানাডা। শরণার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি (এলপিজি) সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডা হাইকমিশন, ইউএনএইচসিআর (UNHCR) এবং আইওএম (IOM)-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই সহায়তার তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডার দেওয়া এই অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পগুলোতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যা শরণার্থীদের রান্নার মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হওয়া এই এলপিজি সহায়তা প্রকল্পের ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। কানাডার এই অনুদানের ফলে:এলপিজি ব্যবহারের ফলে ক্যাম্পে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে।প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে।জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য বনাঞ্চলে যাওয়ার প্রয়োজন কমায় ভূমিধসের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বও কমেছে। কানাডার এই সহায়তা শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, শরণার্থীদের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কাজ করবে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পে থাকা নারীদের যে ঝুঁকি ও নিরাপত্তার অভাব ছিল, এলপিজি ব্যবহারের ফলে তা অনেকাংশে কমে এসেছে। এছাড়া ঘরের ভেতরের বাতাসের মান উন্নত হওয়ায় শরণার্থীদের শ্বাসকষ্টজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, "কানাডা দীর্ঘ সময় ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এই জলবায়ু-সচেতন সহায়তা বন উজাড় হ্রাস এবং শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করবে।"ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট কানাডার এই অনুদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সহায়তা প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সংকটাপন্ন এলাকায় টেকসই সমাধান বয়ে আনবে।