বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয়

জিয়ার জন্য বাংলাদেশ

আকতার   ঢাকা

২০ জানুয়ারী ২০২৫


| ছবি: 

জিয়ার জন্য বাংলাদেশ
    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত্জাতির ইতিহাসে একটি কালরাত্রি। পাকিস্তানের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞ শুরুকরে।জাতীয় ইতিহাসের এই দূর্যোগের মুহূর্তে জাতীয় নেত্রীবৃন্দ কোন দিক নির্দেশনা না দিয়ে এবং দিতে ব্যর্থ হয়ে,ব্যস্ত রইলেন হয় আত্মসমর্পণে না হয় আত্মগোপনে। জাতীয় পর্যায়ে জনমনে পাকিস্তান বিরোধী যে তীব্র উন্মাদনা সৃষ্টি হয় এবং পহেলা মার্চের বলদর্পী ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদ(ন্যাশনাল এসেম্বলী)সবার আলক্ষে ছয় দফা দাবি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে রুপান্তরিত হয়।  উপেক্ষা করে নেত্রীবৃন্দ নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে চললেন বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেউ কেউ পশ্চিম সীমান্তের দিকে,কেউ বা উত্তর পূর্বে। এ ও এক অমার্জনীয় ব্যর্থতা। সেই ঘোর অমানিশার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদয় হলেন মেজর জিয়াউর রহমান। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বেতারকেন্দ্রে'র কর্মীদের সহযোগিতায় মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা উচ্চারণ করলেন। এই ঘোষণা ঐতিহাসিক ঘোষণা,প্রত্যয়দীপ্ত সামনে চলার সাহসিকতাপূর্ণ আহবান। সমগ্র জাতি যখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী'র নির্মমতায় স্তম্ভিত, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনায় সম্বলহীন সেই বিশৃঙ্খল এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তে "জিয়ার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা" সমগ্র জাতিকে ঘুরে দাড়াঁবার সাহস যোগায়। এইভাবে মুক্তিযু্দ্ধের সূচনা হয়। মেজর জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে "আমরা বিদ্রোহ করলাম" এই ঘোষণা সমগ্র চট্টগ্রাম সহ দেশের সকল ক্যান্টনমেন্টে সামরিক অফিসারদের মুহুর্তের মধ্যে প্রস্তুত করে তোলে মুক্তিযুদ্ধের জন্য। এরপর বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন শুরু হয় ঐ পশ্চিমমূখী নেতাদের নেতৃত্বের লড়াই এবং শকুন যেমন মৃত্যুদেহ খামচেছ খামচ্ছে খায় ঠিক সেই ন্যায় ভাগ বাটোয়ারার লড়াই। এর শেষ প্রান্তে গিয়ে আবার চলে আসে সেই ঐতিহাসিক ৭-ই নভেম্বর সিপাহী জনতার মূখে মূখে শ্লোগান "আল্লাহু আকবর,বাংলাদেশ জিন্দাবাদ,জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ,শিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ ইত্যাদী। তখন মনে হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের গণজাগরণের মতো জনমত আবার জেগে উঠেছে। বেতারের এক সংক্ষিপ্ত ভাষনে জেনারেল জিয়াউর রহমান বলেন একতা,কঠোর পরিশ্রম আর উৎসর্গের মানসিকতা সৃষ্টির ডাক দিয়ে দেশকে আবার সচল করে তুলতে সকলকে অনুরোধ জানান। অভ্যুন্থানের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অফিস,আদালত,বিমান বন্দর,মিল-কারখানা ইত্যাদি পূনরায় চালু হয়। জিয়ার সংক্ষিপ্ত আবেগপূর্ণ এবং সময়োচিত ভাষণ সারা দেশে "জাতীয়তাবাদের" জোয়ার বয়ে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে জনমনে আশার সঞ্চয় করেছিলেন। এবার ও তিনি বাংলাদেশকে পুনঃস্বাধীনতার স্বাদ গ্রহনের সুযোগ করে দিলেন। কিন্তু কৈ...! আমরা তাকে কি দিয়েছিলাম.....?
৩০শে মে বৃষ্টি ভেজা রাতে এ দেশের নরঘাতক'রা নির্মমভাবে হত্যা করে এই মহান নেতাকে তাই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে....
"রক্তে ভেজা সিক্ত মাটি বিবর্ণ এই মাস,বুকের মাঝ জুড়ে আছে শহীদ জিয়ার লাশ"।

মোঃ আবদুল হামিদ মল্লিক 
সাবেক সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩নং ওয়ার্ড ১১নং ইউনিট, সবুজ বাংলা আবাসিক এলাকা। তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।