বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, ট্রাম্পের চাপেও অনড় স্টারমার 

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির চরম উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য সরাসরি ইরান যুদ্ধে জড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে এই সংঘাতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন। তবে কিয়ার স্টারমার তার সিদ্ধান্তে অটল। লন্ডনের নীতি-নির্ধারকদের মতে, ব্রিটেনের বর্তমান বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতি কোনো অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণের পক্ষে নয়।প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংকটে সামরিক শক্তির ব্যবহার সমাধানের পথ নয় বলেই মনে করেন তিনি। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ইরান নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপ হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে। যুদ্ধের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি প্রশমনের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে যুক্তরাজ্য।স্টারমারের এই কঠোর অবস্থান ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের মতো শক্তিশালী মিত্রের চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে যুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা জনমত—সব মিলিয়ে স্টারমার এক জটিল কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে রয়েছেন। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে প্রমাণ করেছেন যে, লন্ডনের বৈদেশিক নীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ অনুকরণে নয়, বরং নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে না জড়িয়ে স্টারমার প্রকারান্তরে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সংহতি বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য এখন সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা আলোচনার পথটিকেই অধিকতর কার্যকর মনে করছে।