বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ আগেই আঁচ করেছিল রাশিয়া

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই রাশিয়ার অন্যতম প্রধান বার্তা সংস্থা ‘তাস’ (TASS) সতর্ক করেছিল যে, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে না এবং এটি সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হবে না।আলোচনা শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে রুশ এই সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, হোয়াইট হাউসের বর্তমান নীতি ও তেহরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব। রাশিয়ার কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা আরও বলেছিল, এটি কেবল একটি ‘লোক দেখানো’ আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, যার কোনো বাস্তব রূপরেখা নেই।তাস-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তার পারমাণবিক ও সামরিক শক্তি ত্যাগের যে প্রস্তাব দেবে, তা মেনে নেওয়া তেহরানের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। ফলে এই সংলাপ শুরু হওয়ার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই তা ভেস্তে যেতে বাধ্য।” বাস্তবে দেখা গেল, মস্কোর এই পূর্বাভাস অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে।বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া শুরু থেকেই এই আলোচনার ওপর কড়া নজর রাখছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে যে শীতল সম্পর্ক বিদ্যমান, তার প্রভাবেই সম্ভবত রাশিয়া এই শান্তি আলোচনাকে শুরু থেকেই ‘অকার্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। রুশ বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা চায় আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করতে, যা ইরান বুঝতে পেরেছে।অন্যদিকে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বর্তমানে যে কৌশলগত সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই আগাম সতর্কতা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মস্কো চাইছিল না যে, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো নতুন মার্কিন আধিপত্য কায়েম হোক বা ইরান মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করুক। তেহরান আলোচনার টেবিলে তাদের পারমাণবিক অধিকার ও নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি ছিল না, যা রাশিয়ার বিশ্লেষকরা আগেই আঁচ করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও নির্বাচনের চাপকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন যে ‘দ্রুত সমাধান’ চেয়েছিল, তার অসারতা রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই বুঝেছিল।ইরান বারবার যে আস্থার সংকটের কথা বলেছে, রাশিয়া সেটিকে শুরু থেকেই আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।বর্তমানে ইসলামাবাদে যা ঘটেছে, তা রাশিয়ার আগাম ধারণার সত্যতাকেই প্রমাণ করল। এখন বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়ার এই ধরনের ‘সঠিক ভবিষ্যৎবাণী’ কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।