আন্তর্জাতিক

‘তেহরান টোলবুথ’: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ প্রতি ২০ লাখ ডলার ফি নেবে ইরান

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ওমান। এখন থেকে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ট্রানজিট ফি বা ‘ফি’ প্রদান করতে হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের জলসীমার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দুই দেশ মিলে একটি নতুন প্রটোকল তৈরি করেছে। এই প্রটোকলের আওতায় সামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজগুলোকে নিরাপদ করিডোর দেওয়া হবে।ইরান জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল থেকে প্রাপ্ত এই অর্থ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করা হবে। তবে ওমান এই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করবে তা এখনো স্পষ্ট করেনি।বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রতিটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ বা ট্যাঙ্কারের জন্য এই ফি’র পরিমাণ প্রায় ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত হতে পারে।এই প্রথম হরমুজ প্রণালীকে ‘আন্তর্জাতিক জলপথ’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে ‘টোল বুথ’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্রিটেনসহ বেশ কিছু পশ্চিমা দেশ এই অতিরিক্ত ফি আরোপের কড়া সমালোচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই যুদ্ধবিরতির সুযোগে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাইছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব আরও জোরদার করতে চাইছে।যদিও যুদ্ধবিরতির কারণে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু এই নতুন ‘ট্রানজিট ফি’ কার্যকর হলে শিপিং খরচ ও বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।