রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

"আমিরাতের বাজারে রক্তক্ষরণ"

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

 

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের শেয়ারবাজারে ধস: উধাও ১২ হাজার কোটি ডলার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিক খাতে। যুদ্ধের জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতায় দুই বাজার থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি (১২০ বিলিয়ন) ডলারের বাজার মূলধন স্রেফ উধাও হয়ে গেছে।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট (DFM) এবং আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ (ADX) ক্রমাগত পতনের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ের বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং আবুধাবির বাজার হারিয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার। শতাংশের হিসেবে দুবাইয়ের সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক ৯ শতাংশ নিচে নেমেছে।সম্প্রতি আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্রে। ৩.  আমিরাত একটি বৈশ্বিক ট্রাভেল হাব হওয়ায় যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মার্চের শুরুতে আমিরাতের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CMA) দুদিন লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ রেখেছিল। তবে বাজার খোলার পর থেকে প্রোপার্টি এবং ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম হু হু করে কমতে শুরু করে। বিশেষ করে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক এবং আলদার প্রোপার্টিজের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।আর্থিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘সাময়িক শক’ হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের মনোবল ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন। দুবাই আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাইথাম আউন বলেন, "এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর একটি বড় ধাক্কা, তবে আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য এটি স্থায়ী কোনো ক্ষতি নয়।"সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল জানমালের ক্ষতিই করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম নিরাপদ হিসেবে পরিচিত আমিরাতের আর্থিক ভিত্তিকেও বড় ধরনের নাড়িয়ে দিয়েছে।