আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: নতুন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আপনার নিউজ পোর্টালে ব্যবহারের জন্য প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:


শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: নতুন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় দুই দেশের বৈরী সম্পর্ক নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কোনো চুক্তি ছাড়াই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার নেপথ্যে আলোচনা শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের 'রেডলাইন' বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে অনড় ছিল। তিনি বলেন, "আমরা স্পষ্ট করেছি কোন কোন জায়গায় আমরা ছাড় দেব, কিন্তু ইরান আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।"অন্যদিকে, ইরান এনপিটি (NPT) চুক্তির দোহাই দিয়ে নিজেদের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে তাদের অধিকার হিসেবে দাবি করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সুযোগ বজায় রেখে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খোলা রাখতে চায়। গত ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দুই পক্ষের অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে।ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন ৩টি পথ এই ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন প্রধানত তিনটি পথ খোলা রয়েছে: ১. দীর্ঘমেয়াদী দরকষাকষি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া। ২. যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা: স্থগিত হওয়া যুদ্ধ পুরোপুরি শুরু করা, যা ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। ৩. কৌশলগত লড়াই: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া।বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট এই ব্যর্থতা বিশ্ববাজারে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আবার শুরু হলে তা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব দ্রুত ফ্লোরিডা থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।