রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজছেন প্রাবোও: পুতিনের সাথে জরুরি বৈঠক করতে রাশিয়া যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজছেন প্রাবোও: পুতিনের সাথে জরুরি বৈঠক করতে রাশিয়া যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টমধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি অস্থিরতা মোকাবিলায় রাশিয়ার শরণাপন্ন হচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি এই সপ্তাহেই মস্কো সফর করছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো গতকাল শনিবার নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকের মূল এজেন্ডায় থাকবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা।প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সম্প্রতি একাধিক বিদেশ সফরে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সফরগুলো ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই দৌড়ঝাঁপ। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রাবোও বলেন, "দেশের জ্বালানি তেল নিশ্চিত করার জন্য আমাকে সব জায়গায় যেতে হচ্ছে।"কেন রাশিয়ার দিকে নজর ইন্দোনেশিয়ার? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া ঐতিহাসিকভাবে তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে আমদানিনির্ভর। হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানি রেশনিং চালু করতে হয়েছে এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জাকার্তা।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি অংশীদারিত্ব ইন্দোনেশিয়ার জন্য একটি বিকল্প পথ হতে পারে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই টলচেনভ গত মার্চেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন হলে রাশিয়া তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত। ইন্দোনেশিয়া ব্রিকস (BRICS)-এর সদস্য হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। তবে একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য চুক্তি এবং ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'-এ প্রাবোওর অংশগ্রহণ থাকায়, রাশিয়ার সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা ভূ-রাজনৈতিকভাবে বেশ সংবেদনশীল।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে মস্কোর এই সফর প্রাবোওর জন্য সফল হলে তা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিকে সাময়িক স্বস্তি দেবে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ তিনি কীভাবে বজায় রাখেন, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।