বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক

টোল দিতেই হবে: সাফ জানিয়ে দিলেন ইরানের ডেপুটি স্পিকার

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজী বাবাই আজ রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে তেহরানের হাতে রয়েছে এবং এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে হলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অবশ্যই টোল প্রদান করতে হবে।ডেপুটি স্পিকার হাজী বাবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য একটি 'রেড লাইন'। তিনি বলেন, "এই জলপথটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এটি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে হলে তাদের টোল পরিশোধ করতে হবে। এই টোল অবশ্যই ইরানের নিজস্ব মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে।"আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে তেহরানের এমন অবস্থান বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের আধিপত্য কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপও হতে পারে।এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। তবে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে এই প্রণালির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত না পাওয়ায় ইরান তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ওয়াশিংটন এই জলপথের ওপর পূর্ণ অধিকার দাবি করতে পারে না।হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির একটি বড় অংশের চলাচলের প্রধান পথ। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে ইরান এই প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় এবং জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইরানি সামরিক বাহিনীর নির্দেশনার দিকেই নজর দিতে হচ্ছে শিপিং কোম্পানিগুলোকে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে 'আন্তর্জাতিক জলপথ' দাবি করে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বা 'ফ্রিডম অব নেভিগেশন' বজায় রাখার দাবি করছে, কিন্তু তেহরানের সাম্প্রতিক কঠোর হুংকার সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে ইরানের বর্তমান এই কঠোর অবস্থান বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন এক অনিশ্চিত অধ্যায়ের সূচনা করেছে।