আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে আটকা শত শত জাহাজ, ওড়ছে যুদ্ধের দামামা

আকতার   ঢাকা

১৫ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। বর্তমানে এই পথে পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে প্রায় এক হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ২০০টি তেলের ট্যাঙ্কার রয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি ইনজামাম রশিদের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সামরিক সংঘাত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির ওপর ইরানের কড়া নিয়ন্ত্রণ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেলের দাম ইতিমধ্যে আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে পৌঁছালে বা পার হওয়ার চেষ্টা করলেই ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক ইনজামাম রশিদ বলেন,

“কয়েক দিন আগে আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে দূর সমুদ্রে একটি জাহাজ জ্বলতে দেখেছি। ধারণা করা হচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এটি আক্রান্ত হয়েছে।”

অনিরাপদ সাধারণ জাহাজও

ইরান সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথে বাধা দেবে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কহীন থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ওমান নৌবাহিনী ওই জাহাজ থেকে ২০ জন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করলেও অন্তত ৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ‘যুদ্ধজাহাজ’ মোতায়েনের ডাক

এমন পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন,

“হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আমেরিকা প্রয়োজনে একযোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। আমি আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এই কৃত্রিম বাধা সরাতে আমাদের সাথে যোগ দেবে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ‘যেভাবেই হোক’ তিনি এই সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করবেন এবং একটি ‘পঙ্গু রাষ্ট্র’ হিসেবে ইরানকে আর কোনো হুমকি দেওয়ার সুযোগ দেবেন না।