আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে হুথিদের ক্লাস্টার বোমা হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে তুঙ্গে উত্তেজনা

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

 

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে হুথিদের ক্লাস্টার বোমা হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে তুঙ্গে উত্তেজনাইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 'বেন গুরিয়ান'-এ (Ben Gurion Airport) এক ভয়াবহ যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে চালানো এই হামলায় প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ‘ক্লাস্টার’ বা ফ্র্যাগমেন্টেশন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া এক ভিডিও বার্তায় জানান, এই অপারেশনটি ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC), ইরানি সেনাবাহিনী এবং হিজবুল্লাহর সাথে মিলে এই 'পঞ্চম যৌথ সামরিক অভিযান' পরিচালনা করা হয়েছে।বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কিছু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হুথিদের দাবি, তারা সফলভাবে বিমানবন্দরের রাডার ও কন্ট্রোল টাওয়ার ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই হামলায় সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে ‘ফ্র্যাগমেন্টেশন’ বা ক্লাস্টার ঘরানার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় পরিণত হয় এবং বড় এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র খোলা জায়গায় পড়েছে এবং এতে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলার পর তেল আবিব ও এর আশেপাশে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলা সংঘাতের রেশ ধরে এই হামলা চালানো হয়েছে। হুথিরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অপারেশন চলবে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরে ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর এই ঘটনা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।