আন্তর্জাতিক

আলোচনার টেবিল থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইরানের

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

'যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের আস্থা নেই': আলোচনার টেবিল থেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইরানেরইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আচরণ এবং অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে তাদের প্রতি তেহরানের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। আলোচনা শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, "আমি আলোচনার শুরুতেই বলেছিলাম, আমাদের সদিচ্ছা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই। বিগত দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে আমরা জানি, ওয়াশিংটন কখনোই চুক্তি মেনে চলে না।"তিনি আরও বলেন, "আমাদের প্রতিনিধিদল আলোচনার টেবিলে ১৬৮টি গঠনমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার্কিন পক্ষ আমাদের বিশ্বাস অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।" গালিবাফের মতে, মার্কিন প্রতিনিধিদল তাদের নীতি ও যুক্তি বুঝতে পারলেও, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।ইরান কি এখন কঠোর অবস্থানে? গালিবাফের এই মন্তব্য আলোচনার টেবিলে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর আস্থার সংকট ছিল, তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে, ইরান এখন আলোচনার চেয়ে তাদের 'জাতীয় নিরাপত্তা' এবং 'প্রতিরক্ষা সক্ষমতা' বৃদ্ধির দিকেই বেশি জোর দিতে চাইছে। তবে গালিবাফ এটিও উল্লেখ করেছেন যে, ইরান এখনো কূটনীতি এবং সামরিক লড়াই—উভয় মাধ্যমকেই নিজেদের অধিকার আদায়ের পথ হিসেবে খোলা রাখছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু অর্থনৈতিক শর্তসহ দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।বিশ্লেষকদের মতামত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের জয়ী দাবি করায় একটি মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামাবাদ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছিলেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে রাজি হয়নি, যার ফলে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে।এখন দেখার বিষয়, আস্থার এই চরম সংকটের মুখে দুই দেশ আবার আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন কোনো সংঘাতের দিকে ধাবিত হবে।