রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এড়াতে পাকিস্তানের ‘শান্তি ফর্মুলা’, কী আছে এই প্রস্তাবে?

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কা হ্রাসে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

শান্তি প্রস্তাবের মূল বিষয়সমূহ:

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই শান্তি প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

  • তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি ও সংযম: ইরান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উস্কানিমূলক সামরিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো পক্ষই যাতে এককভাবে হামলার সিদ্ধান্ত না নেয়, সেই নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

  • কূটনৈতিক সংলাপের টেবিল: তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। প্রয়োজনে ইসলামাবাদ নিজেই এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয়: পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ তদারকি ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে, যাতে সমুদ্রপথে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত না হয়।

  • পারমাণবিক চুক্তির সীমাবদ্ধতা: উত্তেজনা কমাতে ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে পুনরায় গঠনমূলক আলোচনায় বসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ: পাল্টাপাল্টি হামলার বদলে ছায়াযুদ্ধ (Proxy War) বন্ধের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খোঁজার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান মনে করে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে তার আঁচ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস নামার আশঙ্কায় পাকিস্তান এই সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চাইছে। ইসলামাবাদের এই শান্তি প্রস্তাবকে ইতিমধ্যে কাতার ও তুরস্ক স্বাগত জানিয়েছে। তবে তেহরান বা ওয়াশিংটন থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতে পারে।