বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা ছাপিয়ে যেভাবে সামরিক দানব হয়ে উঠলো ইরান

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত উত্থানের মধ্য দিয়ে। পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে তেহরান আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ইরানের এই 'পরাশক্তি' হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন (UAV)। বিশেষ করে তাদের তৈরি 'শাহেদ' ড্রোন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। পশ্চিমা অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এই সস্তা অথচ কার্যকর প্রযুক্তি ইরানকে সামরিকভাবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি বিশাল প্রভাব বলয় তৈরি করেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের কৌশলগত জোট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রকারান্তরে তেহরানেরই শক্তির বহিঃপ্রকাশ।মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ ইরানকে দুর্বল করার বদলে বরং স্বনির্ভর হতে শিখিয়েছে। বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সাথে ইরানের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পশ্চিমা একক আধিপত্যকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। ব্রিকস (BRICS)-এর মতো শক্তিশালী জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইরান এখন বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় খেলোয়াড়।পশ্চিমা গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তাদের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলো ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।ইরান আজ আর কেবল একটি আঞ্চলিক দেশ নয়; বরং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, দক্ষ প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং শক্তিশালী বৈশ্বিক মিত্রদের সহায়তায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এক 'পরাশক্তি' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের এই উত্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য আমূল বদলে দিচ্ছে।