আন্তর্জাতিক

লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলা: নিহত ১৩ নিরাপত্তা সদস্য

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর (State Security) অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ভয়াবহ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ শহরে একগুচ্ছ ভারী বিমান হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী হামলা সরাসরি সরকারি স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত স্টেট সিকিউরিটির কার্যালয়ে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলের ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং কার্যালয়টিতে অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন দেখা গেছে।প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে এই হামলাকে ‘চরম উস্কানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, ঠিক তখনই লেবাননে ইসরায়েলের এই নতুন আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।লেবানন ও ইরান উভয়ই দাবি করছে যে, ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। তেল আবিব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহর হুমকি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তারা দক্ষিণ লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।এই ভয়াবহ হামলার মধ্যেই লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরল ও সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্তে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি রয়েছে লেবানন। সাধারণত দুই দেশ তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকে, তাই এই সরাসরি আলোচনার উদ্যোগটি অত্যন্ত নজিরবিহীন।বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন রক্তক্ষয়ী হামলা অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।