আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প কি একাই 'সবচেয়ে বড় লুজার'? যে কারণে চাপের মুখে মার্কিন প্রশাসন

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন— এই সংকটে ট্রাম্প কি সত্যিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা 'লুজার' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন?বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিব্রতকর: ট্রাম্প এই সংঘাতকে দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। ধারণা করা হয়েছিল, সামরিক চাপে ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য একচ্ছত্র হবে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধটি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাবকে উল্টে দিয়েছে।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে গিয়েও কোনো চুক্তি আনতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের 'দাদাগিরি' বা ব্ল্যাকমেইল করার কৌশলের কার্যকারিতা এখন প্রশ্নের মুখে। ট্রাম্পের এই 'ইরান ফিয়াসকো' বা ব্যর্থ অভিযান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করেছে। শিপিং বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি এখন 'হাই-রিস্ক জোন'। এর দায়ভার গিয়ে পড়েছে ট্রাম্পের কাঁধে, যা মার্কিন ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।সংকট চলাকালীন ট্রাম্পের একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া হুমকিগুলো বিশ্ব নেতাদের কাছে তাকে একঘরে করে তুলেছে। বিশেষ করে, যখন আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর সুযোগ ছিল, তখনো তার অনমনীয় মনোভাব ও যুদ্ধের হুমকি তাকে একটি 'যুদ্ধবাজ' নেতার তকমা দিয়েছে।এছাড়া, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হওয়া—এই পুরোটাই ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই অস্থিরতা স্থায়ী হয়, তবে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর বড় খেসারত দিতে হতে পারে রিপাবলিকান দলকে।বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে এখন কোনো সহজ পথ নেই। একদিকে যুদ্ধের নতুন মোড়, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী সমালোচনা—সব মিলিয়ে ফ্লোরিডায় বসে থাকা ট্রাম্পের জন্য আগামী কয়েক দিন হতে যাচ্ছে তার ক্ষমতার অন্যতম কঠিন সময়।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি এখনই কোনো টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথে না হাঁটেন, তবে ইরান সংঘাত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে থাকবে।