সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

ইরানে ক্যানসার ও টিকা তৈরির কারখানায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা: চরম ঝুঁকিতে লাখো রোগী

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

ওষুধের ওপর ‘আগ্রাসন’: ইরানকে পঙ্গু করতে চিকিৎসা খাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের টার্গেটমধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার রণাঙ্গন ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কারখানায়। গত এক সপ্তাহে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় দেশটির অন্তত ৩০০টি চিকিৎসা কেন্দ্র ও প্রধান প্রধান ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একে ইরানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবিক আগ্রাসন’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরাগত ৩১ মার্চ তেহরানে অবস্থিত ইরানের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘তৌফিক দারু’-তে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। এই কারখানাটি মূলত ক্যানসার প্রতিরোধক, অ্যানেস্থেসিয়া এবং বিভিন্ন জটিল রোগের কাঁচামাল তৈরি করত। হামলায় কারখানাটির প্রোডাকশন লাইন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা দেশটির ক্যানসার রোগীদের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এছাড়া গত বৃহস্পতিবার তেহরানের ১০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’-এ হামলা চালানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। ডব্লিউএইচও (WHO) জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও টিকা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।সরাসরি হামলার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের স্বাস্থ্য খাতকে আগে থেকেই শ্বাসরুদ্ধ করে রেখেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে ওষুধ ও মানবিক পণ্য নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল বন্ধ থাকায় ইরান বিদেশ থেকে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কাঁচামাল আমদানি ধাকরতে পারছে না।নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ওষুধের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।থ্যালাসেমিয়া, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) এবং বিরল জেনেটিক রোগের জন্য প্রয়োজনীয় ইনজেকশন ও ওষুধের সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক মাসে ওষুধ ও চিকিৎসার অভাবে অন্তত ১৫০ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক আলিরেজা জালি জানিয়েছেন, কিমোথেরাপির ওষুধ এবং হার্টের রিংয়ের (Stent) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একবার ব্যবহারের উপযোগী মেডিকেল সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করে বারবার ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে “আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর নগ্ন হামলা” বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরে গিয়ে এভাবে ওষুধ ও টিকা উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন।