আন্তর্জাতিক

মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার আল্টিমেটাম দিলেন ট্রাম্প; অন্যথায় ‘নরক’ দেখার হুঁশিয়ারি

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পূর্বঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি।: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, "মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) দিবস এবং ব্রিজ (সেতু) দিবস। ইরানের জন্য সবকিছু একসাথে ঘটবে। পাগলের দল, হয় প্রণালি খুলে দাও, না হয় নরকে থাকার জন্য প্রস্তুত হও—শুধু দেখে যাও!"এর আগে ট্রাম্প সোমবার পর্যন্ত সময় দিলেও পরবর্তীতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যদি প্রণালিটি বন্ধ রাখে, তবে তারা দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারাবে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে বলে জানা গেছে।তবে যুদ্ধের এই দামামার মধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উভয় দেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।: ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামকে 'বেপরোয়া প্রশাসনের আস্ফালন' বলে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির সামরিক কমান্ড থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো সময়সীমা বা হুমকি মেনে নেবে না। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগ্রাসন চালায় তবে তাদের জন্যও 'নরকের দরজা' খুলে যাবে।বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ বন্ধ থাকা এবং যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন পুরো বিশ্ব উদ্বিগ্ন।