আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মোতায়েন: প্রতিরক্ষা চুক্তির নতুন ধাপ

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও সহযোগী বিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। শনিবার (১১ এপ্রিল) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় ‘কিং আব্দুল আজিজ’ বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর এই বহর পৌঁছেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো:

  • যৌথ সামরিক সমন্বয়: দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সক্ষমতা ও সমন্বয় জোরদার করা।

  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

  • ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই অনুযায়ী পারস্পরিক সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে এই সামরিক পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানি প্রতিনিধি দলকে নিরাপদে ইসলামাবাদে আনা-নেওয়া এবং শান্তি আলোচনায় সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা এড়াতে পাকিস্তান আকাশপথে ‘আয়রন এসকর্ট’ বা কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।সূত্র বলছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সি-১৩০ পরিবহন বিমান, আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার এবং অ্যাওয়াক্স (AWACS) নজরদারি বিমান এই মোতায়েনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সংলগ্ন আকাশসীমায় এই বিমানগুলো সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে, যাতে পুরো অঞ্চলটি কঠোর নজরদারিতে থাকে।ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই মোতায়েন সেই নিরাপত্তাজনিত দুশ্চিন্তা নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।