আন্তর্জাতিক

জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তি: যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল জাপানি জাহাজ

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তি: যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল জাপানি জাহাজমধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করেছে একটি জাপানি বাণিজ্যিক জাহাজ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার এটি একটি বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।জাপানের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিতসু ওএসকে লাইনস’ (Mitsui O.S.K. Lines) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের যৌথ মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার, ‘সোহার এলএনজি’ (Sohar LNG), সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়ে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছেছে।পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজটির সব নাবিক ও ক্রু সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন বলে মিতসু ওএসকে লাইনসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কখন বা কোন পথে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং এজন্য ইরানের কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো বিশেষ আলোচনা হয়েছিল কিনা—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নিগত কয়েক মাস ধরে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইরান হুমকি দিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা হলে তারা এই আন্তর্জাতিক জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশসহ অনেক দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দেয়।জাপান তাদের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি এবং এলএনজির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, যার পুরোটাই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাপানি কোম্পানিগুলো এই রুটে জাহাজ চালানো স্থগিত রেখেছিল। প্রথম জাহাজের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন জাপানের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারাপার হয়। এই রুটটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। জাপানি জাহাজের এই সফল যাত্রার পর অন্যান্য দেশও তাদের জাহাজ পাঠাতে উৎসাহিত হবে, যা তেলের দাম কমাতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করতে পারে। বাংলাদেশও এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, দেশের অভ্যন্তরে চলমান জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় এটি একটি ইতিবাচক খবর।