আন্তর্জাতিক

আকাশযুদ্ধে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আকতার   ঢাকা

০৪ মার্চ ২০২৬


| ছবি: 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম (Tasnim) জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে পাওয়া যাচ্ছে ভিন্নধর্মী তথ্য।

ইরানের দাবি: ইরানের খাদেম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত তাদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবারের ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং পাইলটদের প্যারাসুট নিয়ে অবতরণ করতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের বক্তব্য: এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোমবার তিনটি F-15E স্ট্রাইক ঈগল হারানোর কথা স্বীকার করলেও তারা ইরানের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, বিমানগুলো ইরানের কোনো হামলায় নয়, বরং সক্রিয় যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' (ভুলবশত নিজেদের গোলার আঘাত) বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ছয়জন ক্রু মেম্বারই নিরাপদে ইজেক্ট করতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি: গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক এবং সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েত, দুবাই এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।