রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক

সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা: চাঁদের কক্ষপথ জয় করে নতুন ইতিহাসের হাতছানি

আকতার   নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। চাঁদের কক্ষপথে ঐতিহাসিক এক যাত্রা সম্পন্ন করে আজ প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট স্থানে অবতরণ করেছেন তাঁরা। এই সাফল্যের মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদকে ছুঁয়ে দেখার ও সেখানে স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্নকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।স্থানীয় সময় অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এরপর প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরাপদভাবে অবতরণ করে। নাসা জানিয়েছে, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন—প্রত্যেকেই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছেন।উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁদের ক্যাপসুল থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে।দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ আবারও চাঁদের আশেপাশে পাড়ি জমাল। তবে এটি কেবল একটি সাধারণ মহাকাশ যাত্রা ছিল না:

চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি: আর্টেমিস-২ মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য পথ তৈরি করা, যেখানে নভোচারীরা সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবেন।

নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা: এবারের মিশনে ব্যবহৃত হয়েছে নাসার সর্বাধুনিক ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযান এবং ‘এসএলএস’ (Space Launch System) রকেট, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মানব অভিযানের সীমা: চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে নভোচারীরা প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিকূল মহাকাশ পরিবেশে দীর্ঘ সময় মানুষ নিরাপদে টিকে থাকতে সক্ষম।

মিশনের সাফল্যের পর নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বিল নেলসন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি মানবতার জয়। আর্টেমিস-২ আমাদের শিখিয়েছে যে, আমরা আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে মহাবিশ্বের অজানাকে জয় করতে পারি।”আর্টেমিস মিশনের মূল লক্ষ্য এখন ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারী পাঠানো এবং সেখানে স্থায়ীভাবে গবেষণাগার স্থাপন করা। আজকের এই সফল অবতরণ সেই লক্ষ্যের পথে একটি বিশাল মাইলফলক।মহাকাশ বিজ্ঞানের এই নতুন যুগের সূচনা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উৎসাহ জাগিয়েছে। এখন সবার নজর আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতির দিকে।