আন্তর্জাতিক

মার্কিন দম্ভের বিপরীতে কি এক নতুন ইরান

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

 মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—ইরান কি সত্যিই একটি ‘পরাশক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং সরাসরি সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তেহরান যেভাবে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে, তা বিশ্ব নেতাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।ইরানের পরাশক্তি হয়ে ওঠার পেছনে প্রধান স্তম্ভ হলো তাদের স্বনির্ভর সামরিক প্রযুক্তি। বিশেষ করে ইরানের তৈরি ড্রোন (যেমন শাহেদ সিরিজ) এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান প্রমাণ করেছে যে, তারা রাশিয়ার মতো বড় শক্তির সাথে প্রযুক্তির আদান-প্রদান করে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম।সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়েও লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাক-সিরিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে ইরান লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথগুলোতে পশ্চিমা আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইরান এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্র নয়, বরং একটি ‘অ্যাসিম্যাট্রিক সুপারপাওয়ার’ বা অসম শক্তির পরাশক্তি।যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে ইরান এখন চীন ও রাশিয়ার সাথে ‘নো-লিমিট’ পার্টনারশিপে জড়িয়েছে। ব্রিকস (BRICS) এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সদস্য পদ ইরানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা শক্তিশালী করেছে। রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য এবং চীনের অর্থনৈতিক সমর্থনের ফলে ইরান এখন পশ্চিমা একঘরে করার নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।তবে পরাশক্তি হওয়ার পথে ইরানের সবচেয়ে বড় বাধা তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট। ২০২৫-২৬ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা এবং মুদ্রা মানের রেকর্ড পতন ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া প্রভাবশালী নেতাদের মৃত্যু এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন দেশটির স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একদিকে পারমাণবিক সক্ষমতার হাতছানি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা—ইরানকে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।ইরান আজ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ। সামরিক প্রযুক্তি এবং কৌশলগত জোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরাশক্তি হিসেবে দাবি করলেও, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও অভ্যন্তরীণ জনরোষ তাদের এই উত্থানকে কতটা টেকসই করবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।