আন্তর্জাতিক

কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে: কাতারের চরম সতর্কতা

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা নিরসনে কূটনৈতিক পথগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে: কাতারের চরম সতর্কতাইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বলে সতর্ক করেছে কাতার। দোহা থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগ সোমবার রাতে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে এক টেলিফোন আলাপে কাতারি প্রধানমন্ত্রী এই সতর্কতা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি টেকসই এবং ব্যাপক কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র বিকল্প। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং সরাসরি পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি সেই পথকে দিন দিন অসম্ভব করে তুলছে।বিবৃতিতে কাতার আরও জানায়:আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সকল পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে।বেসামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে জনসংখ্যাকে যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করা জরুরি।

ট্রাম্পের ‘মধ্যরাত’ আলটিমেটাম কাতারের এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ওয়াশিংটন সময় আজ রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার এবং মার্কিন শর্তাবলী মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন,

"আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতার মৃত্যু হবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।"

শুধু কাতার নয়, জর্ডানসহ অন্যান্য আরব দেশগুলোও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে তারা তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই সতর্কতা মূলত চূড়ান্ত যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি আজকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।