আন্তর্জাতিক

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে এরদোয়ান: শান্তি ফেরানোর নতুন উদ্যোগ 

আকতার   নিউজ ডেস্ক

০৫ এপ্রিল ২০২৬


| ছবি: 

পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর জেলেনস্কির সাথে বৈঠকে এরদোয়ান: শান্তি ফেরানোর নতুন উদ্যোগ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের ঠিক একদিন পরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) ইস্তাম্বুলের দোলমাবাহচে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠক শেষে দুই নেতা নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং কৃষ্ণ সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন এরদোয়ান। সেই আলাপে পুতিন অভিযোগ করেছিলেন যে, ইউক্রেন রাশিয়া-তুরস্ক গ্যাস পাইপলাইনে হামলার চেষ্টা করছে। এর পরপরই জেলেনস্কির ইস্তাম্বুল সফর এবং এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকারই প্রমাণ দেয়।বৈঠক শেষে জেলেনস্কি জানান, তুরস্ক ও ইউক্রেন নিরাপত্তা খাতে ‘নতুন পদক্ষেপ’ নিতে সম্মত হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরকে সহায়তা করবে দুই দেশ।: এরদোয়ান আবারও ‘ইস্তাম্বুল প্রক্রিয়ার’ আওতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতা করার এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা এখন সময়ের দাবি।দুই নেতা যৌথ গ্যাস অবকাঠামো প্রকল্প এবং কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনের পুনর্গঠনে তুরস্কের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও জেলেনস্কি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।জেলেনস্কি এমন এক সময়ে এই সফর করলেন যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপের স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইস্টার উৎসবের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এরদোয়ানের এই দ্বিমুখী কূটনীতি (পুতিনের সাথে কথা ও জেলেনস্কির সাথে বৈঠক) যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে নতুন কোনো সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।